জাতীয় ডেস্ক
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পৃথক অভিযানে ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। যথাযথ ভ্রমণ ও কাজের বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং স্থানীয় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সেলাঙ্গর রাজ্যের দুটি পৃথক স্থানে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করেন অভিবাসন বিভাগের সদস্যরা। প্রথম অভিযানটি চালানো হয় বাতু কেভস এলাকার একটি নৈশ বাজারে (পাসার মালাম)। পরবর্তীতে সেলায়াং বারু এলাকার একটি আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে সন্দেহভাজন বিদেশিদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয় এবং অনিয়ম পাওয়ায় ৩৯ জনকে আটক করা হয়।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। তবে আটককৃতদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশি নাগরিক কতজন, তা তদন্তের স্বার্থে এখনও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককৃতদের অনেকের কাছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না। আবার অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করে আসছিলেন। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর বিভিন্ন ধারা মোতাবেক আটককৃত এই বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ডিপো বা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন কিংবা নিজ নিজ দেশে পুশব্যাক (ডিপোর্টেশন) করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী সময়ে শ্রমবাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়মিত ‘অপস মেগা’ সহ বিভিন্ন নামে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।
কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন রাজ্যের বাণিজ্যিক এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন, নৈশ বাজার ও বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিবাসন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সাথে অবৈধ শ্রমিকদের আশ্রয়দাতা বা নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।