আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়ার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দেশের একাধিক শহর ও বেসামরিক বসতি লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালায়। এসব হামলায় ২৭ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৬৭ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দিনভর চলা এই অভিযানের অংশ হিসেবে বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে অবস্থিত কুবেইরি মহল্লায় একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়। দুপুরের পর সংঘটিত ওই সুনির্দিষ্ট হামলায় দুই নারীসহ তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১৬ জন আহত হন। এর পাশাপাশি পৃথক এক অভিযানে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একজন স্থানীয় কমান্ডার নিহত এবং তার চার সহযোগী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা জোরদার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৮৩ জনে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ হাজার ৬৯৯ জন মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক মহলে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই লেবাননে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় এবং হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ সক্ষমতা সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই ইসরায়েল তাদের সামরিক চাপ বহাল রেখেছে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে দফায় দফায় বিমান হামলার ফলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। আঞ্চলিক এই উত্তেজনা নিরসনে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কার্যকর হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনগুলোতে নিহতের সংখ্যা এবং সংকটের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।