বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে দেশ পুরোপুরি তামাক ও মাদকমুক্ত না হলে এই বিশাল বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে তামাকের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর তামাকের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছেন। তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী বলেন, তামাকখাত থেকে প্রতি বছর সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পেছনে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ফলে স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তামাকের এই অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো সম্ভব হলে এই চিকিৎসা ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও সরকারের টিকাদান কর্মসূচি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেয়া সব ধরনের পদক্ষেপ ইতোমধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের কারণে এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান, পুরো দেশে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ঈদুল আজহার আগের সময়কাল থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে শিশুদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়মিত চলমান রয়েছে এবং দেশের কোনো শিশুই যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।