ক্রীড়া প্রতিবেদক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদীয়মান ডানহাতি পেসার শামার জোসেফ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে তিনি আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রাশিদ খানের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। পুরো সিরিজে জোসেফ মোট ১১টি উইকেট শিকার করেন, যা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ তথা চূড়ান্ত ম্যাচে শামার জোসেফের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিং ম্যাচ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ম্যাচটিতে তিনি নিজের নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৫টি উইকেট লাভ করেন। এটি তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। ম্যাচের শুরু থেকেই লঙ্কান ব্যাটারদের চাপে রাখা জোসেফ প্রথম তিন ওভারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। এরপর ইনিংসের শেষ ওভারে চমৎকার লাইন ও লেংথ বজায় রেখে একাই আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনের চূড়ান্ত বিপর্যয় ঘটান।
চূড়ান্ত ম্যাচের এই বিধ্বংসী রূপের আগেও সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে জোসেফ সমানভাবে ধারাবাহিক ছিলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি যথাক্রমে তিনটি করে উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন। তিন ম্যাচের এই সিরিজে তার ধারাবাহিক সাফল্য সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। ওভারপ্রতি রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট এনে দিয়ে প্রতিপক্ষের বড় সংগ্রহ গড়ার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন এই ক্যারিবীয় গতি তারকা।
এর আগে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগান লেগ-স্পিনার রাশিদ খান মোট ১১টি উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথম কোনো পেসার হিসেবে রাশিদ খানের সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন শামার জোসেফ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে কোনো পেস বোলারের পক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এমন বোলিং পরিসংখ্যান আধুনিক ক্রিকেটে বেশ বিরল বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। এই কীর্তি জোসেফের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করল।
সিরিজজুড়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামার জোসেফ সমাপনী ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ বা সিরিজসেরার পুরস্কার লাভ করেন। তার এই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের ওপর ভর করেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে লঙ্কানদের পরাজিত করে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। জোসেফের এই উত্থান ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ডের পেস বোলিং আক্রমণভাগকে আগামী দিনের বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।