ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত আরও নিখুঁত করতে ক্রিকেটের বহুল ব্যবহৃত ‘স্নিকোমিটার’ বা ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির আদলে তৈরি সেন্সর প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেখা গেছে। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে সুইডেন ও তিউনিশিয়ার মধ্যকার লড়াইয়ে এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অফসাইডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। উন্নত প্রযুক্তির এমন ব্যবহারের ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে সুইডেন।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে সুইডেনের বদলি খেলোয়াড় মাটিয়াস সভানবার্গ মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিউনিশিয়ার জালে বল পাঠান। তবে সহকারী রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে অফসাইডের পতাকা তুললে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষার সময় আলেকসান্দার ইসাকের পায়ে বলের সূক্ষ্ম স্পর্শ লেগেছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে বল ট্র্যাকিং ও সাউন্ড সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা মূলত ক্রিকেটের ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির সমরূপ। এই প্রযুক্তির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, বল স্পর্শের সময় তিউনিশিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের অবস্থানের কারণে সভানবার্গ অফসাইডে ছিলেন না। ফলে রেফারি পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।
ফুটবল ম্যাচে বলের গতিপথ ও মানবদেহের স্পর্শ নির্ণয়ে ক্রিকেটের মতো শব্দ ও আল্ট্রা-সাউন্ড সেন্সর প্রযুক্তির এমন ব্যবহার বিশ্ব ফুটবলে বেশ বিরল। ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্ত এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষক ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি আগামী দিনে ফুটবলে অফসাইড ও হ্যান্ডবলের মতো জটিল সিদ্ধান্তগুলো আরও নিখুঁত ও বিতর্কহীন করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিতর্কিত গোলের সিদ্ধান্তটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও পুরো ম্যাচে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল সুইডেন। খেলার প্রথমার্ধ থেকেই তিউনিশিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। সুইডেনের পক্ষে দুর্দান্ত খেলেন ইয়াসিন আয়ারি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ (৯৬ মিনিট) মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়া দলের হয়ে অন্য গোলগুলো করেন তারকা ফরোয়ার্ড আলেকসান্দার ইসাক ও ভিক্টর গেয়োকেরেস।
অন্যদিকে, শক্তিশালী সুইডেনের বিপক্ষে তিউনিশিয়ার রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচে তারা খুব বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তবে আক্রমণভাগের ফুটবলার ওমর রেকিকের একক প্রচেষ্টায় তিউনিশিয়া একটি গোল পরিশোধ করতে সক্ষম হয়, যা তাদের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমায়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সমীকরণ মেলাতে এই জয়টি সুইডেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানের চেয়েও ফুটবল বিশ্ব এখন বুঁদ হয়ে আছে ম্যাচটিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের ওপর, যা আধুনিক ফুটবলের রেফারিং ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।