বিশেষ প্রতিবেদক
দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১২ জুন ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের এই গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাঁকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ করছে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা (এনসিবি ঢাকা) আবুধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রক্ষা করছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অতি দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। حقوق মানবতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে র্যাবের যে সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করলে তিনি গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং দেশের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অবশেষে তাঁকে আটক করা সম্ভব হলো।