ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-র এই ম্যাচে পুরো সময় জুড়েই তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ সামলে কার্যকর কাউন্টার অ্যাটাক তথা প্রতি-আক্রমণ কৌশলে দারুণ এক জয় তুলে নেয় সকারুজরা। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা এবং দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফে। এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাল ওশেনিয়া অঞ্চলের এই প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল তুরস্ক। আর্দা গুলের, কেনান ইলদিজ এবং অভিজ্ঞ হাকান চালহানোগ্লুর মতো তারকা ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত তুর্কি আক্রমণভাগ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার জোর চেষ্টা চালায়। বলের দখল এবং মাঝমাঠের আধিপত্যে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার সুপরিকল্পিত এবং জমাট রক্ষণভাগের কারণে তারা চূড়ান্ত সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়। উল্টো ম্যাচের শুরুতেই ডিফেন্স চেরা এক প্রতি-আক্রমণ থেকে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা লক্ষ্যভেদ করলে উল্লাসে ফেটে পড়ে অস্ট্রেলিয়ান শিবির। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আরও মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে তুরস্ক, তবে প্রথমার্ধে তারা সমতা ফেরাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্রনাট্যে তেমন কোনো বদল আসেনি। সমতায় ফিরতে মরিয়া তুরস্ক একের পর এক আক্রমণ জোরালো করতে থাকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ এদিন যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তুরস্কের নিশ্চিত কয়েকটি গোলারুক্ষ শট এবং হেড চমৎকার দক্ষতায় প্রতিহত করেন তিনি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ‘সেভ’ করে তিনি দলের লিড ধরে রাখেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষকের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশেষ করে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তুর্কি ফরোয়ার্ডদের শটগুলো রুখে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাতেই রাখেন এই গোলপ্রহরী।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে তুরস্কের সমস্ত আশা ভেস্তে দেয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় গোলটি। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে সকারুজরা। বল পান মিডফিল্ডার কনর মেটকাফে। বক্সের বেশ দূর থেকে নেওয়া তার এক দূরপাল্লার জোরালো শট তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চাকিরকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যায় তুরস্ক। ম্যাচের শেষ দিকে তারা অলআউট ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডাররা উঁচু বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে তুর্কিদের সব প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘ডি’-র সমীকরণ বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে পরাজিত করে রানরেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের মুখ দেখা তুরস্ককে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। আগামী ম্যাচগুলোতে গ্রুপ পর্বের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।