নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রবিবার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল গোলচত্বর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অগ্রগতি পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে এ সময় জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের সংযোগস্থলসহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হয়। মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা-আবর্জনা স্তূপাকার করে রাখায় একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল, অন্যদিকে তীব্র দুর্গন্ধে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছিল চরম ভোগান্তি। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গোলাকান্দাইল গোলচত্বর ও মহাসড়কের আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ঈদের ছুটির সুযোগে মহাসড়কের পাশে এই বর্জ্য ফেলা হয়েছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরপরই দ্রুত তা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই দিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে বা উন্মুক্ত স্থানে যাতে আর কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার বর্জ্য সুনির্দিষ্টভাবে ফেলার জন্য একটি পৃথক ল্যান্ডফিল বা ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ল্যান্ডফিলে স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প-কারখানা এবং পৌরসভার উৎপাদিত বর্জ্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বের বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য পুনরুৎপাদন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জৈব সার ও গ্যাস উৎপাদনের কাজ করছে। বাংলাদেশেও এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা সম্ভব হলে দেশের পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বর্জ্য সমস্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।