ক্রীড়া প্রতিবেদক
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই চরম আধিপত্য দেখিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ইংলিশদের হয়ে রান পাহাড়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার অ্যামি জোন্স ও ড্যানি ওয়াট। উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনার পর অ্যামি জোন্স ৫৩ রান করে আউট হলেও অন্যপ্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান ড্যানি ওয়াট। লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি তুলে নেন এক অনবদ্য সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ওয়াট ১০৫ রানে এবং অধিনায়ক নাটালি সিভার ৪৬ রানে অপরাজিত থাকলে ২০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৯ রান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন মাদারা, তবে ৪ ওভার বল করে তিনি খরচ করেন ৫১ রান।
এই বড় সংগ্রহের মাধ্যমে ইংল্যান্ড নারী দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের গড়া আগের রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। এর আগে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২১৩ রান ছিল তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এজবাস্টনের ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে ইংলিশ ব্যাটাররা লঙ্কান বোলিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চাপে রাখতে সক্ষম হন।
২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারী দলের কোনো শীর্ষ ব্যাটার। বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কান মেয়েরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন নিলাকশিকা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে সামারাবিক্রমার ব্যাট থেকে। তবে মধ্যসারির এই প্রতিরোধ কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফ্রেইয়া কেম্প; তিনি ২২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া সোফি একলেস্টোন ও চার্লি ডিন প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের অল্প রানে বেঁধে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শতক হাঁকিয়ে দলের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করায় ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন ইংল্যান্ডের ওপেনার ড্যানি ওয়াট। এই বড় জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই রান রেটের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল স্বাগতিক দল। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডের এমন পারফরম্যান্স আসরের বাকি দলগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কাকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২১৯/১ (ওয়াট ১০৫*, জোন্স ৫৩, সিভার ৪৬*; মাদারা ১/৫১)। শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৩২/১০ (নিলাকশিকা ৩৯, সামারাবিক্রমা ২৯; কেম্প ৪/২২, ডিন ২/১৮, একলেস্টোন ২/২৭)। ফলাফল: ইংল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী।