আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকার অস্থিতিশীল রাষ্ট্র মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তরের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক একটি চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ত্যাগ করার কথা রয়েছে। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক আইনি সুরক্ষা লঙ্ঘন করে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের মাধ্যমে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রথম ফ্লাইটের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিক রয়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের একজন এমিলি ট্রস্টল জানিয়েছেন, এই তালিকায় এমন দুজন ইরানি নারী রয়েছেন যাদের একজন খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন ইরানে চলমান গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া এই ফ্লাইটে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার এক তুর্কি নাগরিকসহ সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরাও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কিছু অভিবাসনপ্রত্যাশী ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ নামক বিশেষ আইনি সুরক্ষার অধিকারী। এই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি বিধানের মূল শর্ত হলো—কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে বা পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিরা সরাসরি নিজ দেশে ফেরত না গেলেও, একটি অস্থিতিশীল তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে বলে আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল শর্ত হলো তৃতীয় কোনো দেশ থেকে বহিষ্কৃত বা বিতাড়িত অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই চুক্তির আওতায় স্থানান্তরিত অভিবাসীদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে রাখা হবে এবং তাদের তাৎক্ষণিকভাবে মূল স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে প্রাথমিক দফায় ২০ জনকে পাঠানো হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির অধীনে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীকে মধ্য আফ্রিকায় পাঠানোর একটি ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক অভিবাসন চুক্তিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা থাকে না এবং এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে সেখানে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও আইনি মহলে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।