1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অভিবাসী পাঠানোর পরিকল্পনা: তীব্র বিতর্কের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ রেকর্ড সংগ্রহের পর বড় জয়ে ইংল্যান্ডের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৫০ রোকনপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তির কাছাকাছি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ইরান দলের বেস ক্যাম্পের কাছে মরদেহ উদ্ধার, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যারাগুয়েকে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী, পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন আজ

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তির কাছাকাছি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, এই নৌপথের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আগামী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুর সমাধান করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়সমূহ এই চুক্তিতে স্থান পেয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, কোনো অর্থ বা সম্পদ আগাম মুক্ত করা হবে না; ইরান তার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।

এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেই চুক্তি স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই রয়েছে এবং এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাকি আছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মার্কিন সূত্রগুলো পূর্বে জানিয়েছিল, লেবানন ইস্যু এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা বাকি রয়েছে। বিগত কয়েক মাসেও একাধিকবার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গিয়েছিল। তবে এবার উভয় পক্ষই আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আগের তুলনায় বেশি নমনীয় ও খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026