নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের কারিগরি ও নারী শিক্ষার সার্বিক প্রসারে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। দেশের সব নাগরিকের জন্য আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একে যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিগত সময়ের সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নারী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবে সরকারের এসব উদ্যোগের শতভাগ সফলতার জন্য পারিবারিক পর্যায় থেকে অভিভাবকদের সচেতনতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সবচেয়ে বেশি জরুরি। অভিভাবকেরা সচেতন হলে দেশ থেকে ঝরে পড়ার হার যেমন কমবে, তেমনি নারী ক্ষমতায়ন আরও বেগবান হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল বিজ্ঞান প্রকল্পসমূহ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং তাদের মেধার প্রশংসা করে উদ্বুদ্ধ করেন। আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি সৃজনশীল ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ওপর তাগিদ দেন তিনি।
আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। টেকসই শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের এই পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।