আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবিকে দুটি ধর্ষণের ঘটনা ও একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অসলো জেলা আদালত। সোমবার তিন বিচারকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে দুটি থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন। ২৯ বছর বয়সী হইবি স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতে উপস্থিত না থেকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড এবং হইবির আইনজীবীরা সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করেছিলেন। আসামি পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
মারিউস হইবি নরওয়েজিয়ান রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য না হলেও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত এবং ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সংসারে বড় হওয়ায় এই মামলার প্রভাব রাজপরিবারের ওপর পড়েছে। রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ায় এ নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। হইবির মা বর্তমানে ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকায় এবং অতীতে তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার রেকর্ড থাকায়, আইনজীবীদের করা জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
বিচারক জন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করেন, হইবি ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাউগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে অসলোতে দুটি পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা ঘুমন্ত বা প্রতিরোধে অক্ষম অবস্থায় ছিলেন এবং হইবির নিজের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়। এছাড়া সাবেক প্রেমিকা নোরা হাউকল্যান্ডসহ অন্য নারীদের ওপর নির্যাতন ও শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। আদালত চারজন ভুক্তভোগী নারীকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার ক্রোনার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায় এবং রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষা নিয়ে নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।