জাতীয় ডেস্ক
প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এনে গতিশীল করার বিষয়েও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালিত হয়।
সংসদে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে দেওয়া নির্দেশনার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের জন্য গৃহীত সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করা আবশ্যক। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নিয়োগ ও বদলিতে মেধার মূল্যায়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে। ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সেবা সহজীকরণ করা হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।