1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ৮২ হাজার ছাড়াল উপজেলা হাসপাতাল ১০১ বেডে উন্নীত ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর চার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঁচ উপ-উপাচার্য নিয়োগ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী রিয়াল মাদ্রিদে কোচের বিদায়, আলভারেজকে পেতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ছয় নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে অসন্তুষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কৃতিভিত্তিক পাঠ্যক্রম: আগামী ৫ বছরে ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সরকারের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ থেকে হামের টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ থেকে হামের টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ (UNICEF) থেকে হামের টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় এই টিকা ক্রয়ে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির এক বিশেষ বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই অর্থ বরাদ্দ ও সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৬ হাজার ১৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২ হাজার ২৯২ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসে দেশে হাম এবং এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯২ জন এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী হারের কারণে দেশে ভ্যাকসিনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই রোগটির প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার টিকা ব্যবস্থাপনা ও ক্রয়ের ধীরগতির কারণে এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ১০টিরও বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে পাঠানো একটি চিঠিতেও টিকার আসন্ন ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় (Direct Procurement) শিশুদের বিভিন্ন প্রতিষেধক টিকা আমদানি করত, যার সিংহভাগ অর্থায়ন আসত আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা থেকে। তবে ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে রাজস্ব বাজেটের অধীনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (Open Tendering Method) মাধ্যমে টিকা ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে যথাসময়ে টিকা আমদানি ব্যাহত হয়, যা পরবর্তীতে বাজারে এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে ভ্যাকসিনের ঘাটতি তৈরি করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার জরুরি টিকা ক্রয় অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ থেকে দ্রুত টিকা দেশে পৌঁছালে সারা দেশে স্থগিত ও ব্যাহত হওয়া টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। এতে করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দ্রুত কমিয়ে আনা যাবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026