বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন এবং তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ন্যূনতম ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এই পরিকল্পনার কথা জানান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই সভার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সে লক্ষ্যে আগামী জাতীয় বাজেটে এই খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে কেবল বাজেট বৃদ্ধিই লক্ষ্য নয়, বরং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেই বরাদ্দের সুফল যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারি এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক ও কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর পূর্ববর্তী রোগব্যাধি, ব্যবহৃত ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার যাবতীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব করা এবং অতিরিক্ত ল্যাবরেটরি টেস্ট করানোর প্রবণতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল সংকট নিরসনে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ হাজারই থাকবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এছাড়া দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বড় পরিসরে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সের মধ্যকার অনুপাতের বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে এনে নার্সিং সেবার পরিধি ও মান বৃদ্ধি করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংগঠনের বর্তমান মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল। সভায় বক্তারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ চিকিৎসা সেবা উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারের এই রূপরেখাকে স্বাগত জানান এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।