ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম সংস্করণের পর্দা উঠতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের আসরটি নানা কারণে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার রেকর্ড ৪৮টি দেশ বিশ্বসেরার ট্রফির লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। প্রায় ৪০ দিনব্যাপী এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত সময়সূচি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই মেগা ইভেন্টের।
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) জানায়, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের প্রতিযোগিতার ফরম্যাটেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের ৩২ দলের পরিবর্তে এবার ৪৮টি দলকে মোট ১২টি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল একে অপরের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল সরাসরি জায়গা করে নেবে দ্বিতীয় রাউন্ড অর্থাৎ ‘শেষ ৩২’-এর লড়াইয়ে। দল বাড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দীর্ঘ সময়জুড়ে রোমাঞ্চের জোগান দেবে।
উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে আয়োজক দেশ মেক্সিকো। বাংলাদেশ সময় ১১ জুন দিবাগত রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই। অন্য দুই আয়োজক দেশের মধ্যে কানাডা ১২ জুন রাত ১টায় টরন্টোতে বসনিয়ার মুখোমুখি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৩ জুন সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।
বিশ্বকাপের অন্যতম জনপ্রিয় দল ব্রাজিল খেলবে গ্রুপ ‘সি’-তে। সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন ভোর ৪টায়, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। অন্যদিকে গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচে ১৭ জুন সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে। এছাড়া পর্তুগাল ১৭ জুন রাত ১১টায় কঙ্গোর বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ড একই রাতে ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। ২৪ জুন পর্যন্ত চলবে জমজমাট গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো।
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে আগামী ২৮ জুন থেকে শুরু হবে নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ বা দ্বিতীয় রাউন্ডের (শেষ ৩২) খেলা। এই পর্বের খেলাগুলো চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর টিকে থাকা সেরা ১৬টি দল নিয়ে ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় রাউন্ড বা ‘শেষ ১৬’-এর লড়াই। প্রতিটি ম্যাচই নকআউট পদ্ধতিতে হওয়ায় দলগুলোর জন্য কোনো ভুল করার সুযোগ থাকবে না।
বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯, ১০, ১১ ও ১২ জুলাই। এরপর ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে আগামী ১৪ ও ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ডালাস ও আটলান্টায়। ফাইনালে পরাজিত দুই দলের মধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুলাই মায়ামিতে।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মোট ১৬টি ভেন্যু পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, দলের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে টুর্নামেন্টটি যেমন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তেমনি ছোট দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই রাত ১টায় নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটবে এই দীর্ঘ ফুটবল লড়াইয়ের।