সংসদ সংবাদ ডেস্ক
জনসাধারণের সুবিধার্থে ডাক বিভাগের সেবা আরও সহজলভ্য ও গতিশীল করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ বা ‘পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের বিভিন্ন উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করার প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান।
সংসদে সেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ই-কমার্স ও এফ-কমার্স (ফেসবুক ভিত্তিক বাণিজ্য) খাতকে বড় পরিসরে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি আধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এই সেন্টারগুলোর মাধ্যমে ই-কমার্স পণ্যের সুনির্দিষ্ট সংগ্রহ, নিরাপদ সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, দ্রুত পরিবহন ও গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালিত হবে। এর ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাণিজ্য খাতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদে সরকারি ডাক সেবার গতি বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের নানামুখী কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের সুবিধার্থে এবং সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বর্তমানে ভূমির ডকুমেন্টস হোম ডেলিভারি, পাসপোর্ট বাল্ক ডেলিভারি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হোম ডেলিভারি কার্যক্রম সফলভাবে দেশজুড়ে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে ই-কমার্স পণ্যের ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ তথা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সেবা চালুর বিষয়টিও এখন চূড়ান্ত প্রক্রিয়ারধীন আছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমএফ) ট্রাফিক কার্যক্রমের আওতায় ভিডিও মামলা ও ট্রাফিক নোটিশ সংশ্লিষ্ট চালক বা গাড়ির মালিকের ঠিকানায় ডাকযোগে সফলভাবে পাঠানো হচ্ছে।
ডিজিটাল সেবার পরিধি দেশব্যাপী আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সংসদকে অবহিত করে মন্ত্রী জানান, ডিএমএস বা ডমিস্টিক মেইল মনিটরিং সিস্টেম সফটওয়্যারের মাধ্যমে এখন পণ্যের অনলাইন ভিত্তিক রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং সুবিধা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকেরা ঘরে বসেই তাদের প্রেরিত পার্সেলের সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন। এর পাশাপাশি সারা দেশে সবচেয়ে কম মূল্যে সাধারণ চিঠি ও পার্সেল বিলি এবং ইএমএস বা এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে সাশ্রয়ী মাশুলে পার্সেল প্রেরণ কার্যক্রম নিয়মিত চালু রয়েছে। এমনকি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ফল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কম খরচে, নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে মৌসুমি ফল পরিবহনের বিশেষ কাজও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে করা হচ্ছে। চলমান এই আধুনিক পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের সেবার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, একই দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহিলা আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশের মোবাইল গ্রাহকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি সংসদে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় ও সরকারিভাবে অনুমোদিত বৈধ মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সংখ্যা ৪টি। এই রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হলো যথাক্রমে সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বেসরকারি তিন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। মন্ত্রী সংসদে নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এই ৪টি নিবন্ধিত মোবাইল কোম্পানির অধীনে দেশজুড়ে মোট বৈধ বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রার্ডকৃত সিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮২ লক্ষে। সরকার টেলিকম খাতের এই বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে নিয়মের মধ্যে এনে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।