1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টার প্রতিবাদে জামায়াতের বিবৃতি জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে ঋণের ফাঁদে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সার্বজনীন কল্যাণের লক্ষ্যে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ঢাকার দুই সিটির প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টির বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারে ফিফার সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি, নামমাত্র খরচে খেলা দেখাবে বিটিভি জাতীয় সংসদ লাইব্রেরিতে আরএফআইডি প্রযুক্তি চালুর সুপারিশ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাসিক প্রশাসকের কড়া বার্তা: ব্যর্থতায় বদলি, সাফল্যে পুরস্কার নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, পাহারায় যুক্ত হয়েছেন গ্রামবাসীরা হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, অক্ষত অবস্থায় দুই পাইলট উদ্ধার

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে ঋণের ফাঁদে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি প্রতিবেদক

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, সীমিত আয় এবং আপৎকালীন সঞ্চয়ের অভাবে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ক্রমান্বয়ে ঋণের ফাঁদে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রান্তিক ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে ফেলাসহ জমি বিক্রি, মহাজনী সুদ এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার (এনজিও) ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে। মৌলিক চাহিদা মেটানোর এই অতিরিক্ত চাপ অনেক পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই তুলনায় সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি ও মাছ-মাংসসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্ধিত বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়। ফলে কয়েক বছর আগেও যেসব পরিবার নিয়মিত কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারত, বর্তমানে তারা মাসিক আয় দিয়ে পারিবারিক ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। মাসের শেষভাগে এসে দৈনন্দিন খরচ সচল রাখতে অনেকেই আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আর্থিক এই সংকটের প্রভাব গ্রামীণ ও নগর উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো হঠাৎ কোনো বড় খরচের সম্মুখীন হলে চরম বিপাকে পড়ছে। পারিবারিক অসুস্থতা বা সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল চাষের জমি বিক্রি করছেন কিংবা স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি একই রকম। প্রতি মাসে নির্ধারিত আয়ের একটি বড় অংশ বাড়ি ভাড়া ও সন্তানের স্কুলের বেতনেই চলে যাওয়ায়, আপৎকালীন যেকোনো খরচের জন্য তাদের নতুন করে ঋণের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। পূর্বের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আবার নতুন করে ঋণ নেওয়ার এই চক্রে অনেকেই স্থায়ীভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধতা এবং ওষুধের চড়া মূল্যের কারণে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কেবল চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ সমাজে সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য সাধ্যের অতিরিক্ত ব্যয় করার প্রবণতাও ঋণগ্রস্ততা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর ফলে জমি বা বসতভিটার মতো স্থায়ী সম্পদ হাতছাড়া হয়ে অনেক পরিবার দীর্ঘমেয়াদে আয়ের উৎস হারাচ্ছে।

এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেশের সামষ্টিক সামাজিক কাঠামোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত ঋণের চাপ ও মানসিক অবসাদের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। চরম সংকটে পড়ে কিছু ক্ষেত্রে আত্মহননের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে মধ্য ও নিম্নবিত্তের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অনেক পরিবারকে নীরবে ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—এই তিনটি খাতেই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে।

সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে এই অর্থনীতিবিদ সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তৃতিও জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন আর্থিক পরিকল্পনা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসা না গেলে এই ঋণগ্রস্ততার হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026