জাতীয় ডেস্ক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষতম নীতি-নির্ধারণী ফোরামে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি আগামী এক বছরের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই নির্বাচনটি অত্যন্ত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল বলে জানা গেছে। সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের এই ভোটে মোট ১৯০টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। নির্বাচনে কোনো ভোট বাতিল বা কেউ ভোটদানে বিরত থাকেননি। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, ৫টি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে আবর্তন প্রক্রিয়ায় এবারের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব পেয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। এই গ্রুপের সমর্থনেই বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই গৌরবময় বিজয় অর্জন করে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ড. খলিলুর রহমান বিদায়ী সভাপতি আন্নালেণা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং এক বছর মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশি একজন শীর্ষ কূটনীতিকের এই বৈশ্বিক নেতৃত্ব লাভ দেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয় এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বব্যাপী বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর এই কার্যকালটি জাতিসংঘের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে, কারণ এই সময়েই বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি যখন বিশ্ববাসীর আস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন তিনি অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি তাঁর আসন্ন মেয়াদের জন্য ছয়টি মূল অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার রক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির নিরাপদ শাসন এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ শান্তি রক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান, মানবিক কূটনীতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার বৈশ্বিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব হয়েছে। ড. খলিলুর রহমানের চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা এই মেয়াদে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে আরও সুদৃঢ় করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।