সারাদেশ ডেস্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজ হওয়ার ৩০ ঘণ্টা পর নাঈম (২৭) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পেছন থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নাঈম উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের ব্যবসার পাশাপাশি বাড়ির পাশে পুকুর ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ করতেন।
শ্রীপুর থানা পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে নাঈম তাঁর মৎস্য প্রকল্প দেখভালের উদ্দেশ্যে টর্চলাইট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমবার কল করা হলে ফোনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর ও পরদিন বুধবার দিনভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের শেখেরঘাট এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসার পেছনে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নিখোঁজ নাঈমের বলে শনাক্ত করে এবং সেটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শুরু করে।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রক্রিয়া শেষ করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বরমী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা এই অপরাধের সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।