রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। কমিটিতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে এই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি চলমান ছিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই নতুন ও বিশদ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন মুখদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রেজাউল কবীর পল এবং ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন বিল্লাল হোসেন তারেক। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েলকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাজের সুবিধার্থে এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত দলীয় কর্মীদের সংযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কমিটিতে প্রবাসী নেতৃবৃন্দকেও স্থান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সহ-সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবু সাঈদ আহমেদ ও যুক্তরাজ্যের রহিম উদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৌদি আরবের হারুন অর রশীদ হিরো দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পদ। সহ-সভাপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান জিয়া, কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, শাহ আলম চৌধুরীসহ ৩০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার ওপর। এর পাশাপাশি প্রচার সম্পাদক হিসেবে আল মেহেদী তালুকদার, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে আশরাফ জালাল খান মনন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে আমিনুর রহমান আমিন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রোকনুজ্জামান রোকন মনোনীত হয়েছেন।
সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পাদকীয় পদে বিন্যাস করা হয়েছে। আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট মুর্তজা কামাল মোস্তাক, অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী রফিসহ পাঁচজন এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ডা. গালিব হাসান ও ডা. বেলাল হোসেন নাজিম দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া কৃষিবিদ সানোয়ার আলমকে কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, কে এস এম মুসাব্বির শাফীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং ইমরান আহমেদ প্রিন্সকে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের কর্মকাণ্ড জোরদার করতে খায়রুজ্জামান লিঙ্কন, এ আর মামুন খান ও মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার, সমাজকল্যাণ, পরিবেশ ও শ্রম খাতের মতো প্রগতিশীল ক্ষেত্রগুলোতেও পৃথক সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির একেবারে শেষের দিকে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন কার্যনির্বাহী সদস্যকে, যার মধ্যে আমিনুল ইসলাম খান, মাহবুব শিকদার, মহসীন বিশ্বাসসহ ছয়জন সদস্যকে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বিএনপি নেতৃত্ব। নবগঠিত এই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি আগামী দিনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।