শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইউএনডিপির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসারে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমে ইউএনডিপির কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে জাতিসংঘের এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা সফল করতে ইউএনডিপি সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। লিলার আরও জানান, টেকসই নগর উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে ইউএনডিপি যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবমূর্তিকে আরও সুসংহত করবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বৈদেশিক অনুদান ও বিনিয়োগ আকর্ষণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এবং ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।