নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩৭৭ জন বাংলাদেশি হাজি সুশৃঙ্খলভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের মোট ৬২টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। অন্যদিকে, চলতি বছরের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে বার্ধক্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ হজ বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ২২ হাজার ৮৭৭ জন। এ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৮৯৬ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ৯ হাজার ৭৩০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর বাইরে অন্যান্য এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন আরও ৫১ জন হজযাত্রী। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরে হাজিদের স্বাগত জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ঢাকা প্রতিনিধি ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে, সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে ইন্তেকাল করা ৪৫ জন বাংলাদেশির মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং নারী ১৬ জন। এর মধ্যে মক্কায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং পবিত্র কাবা শরীফের কাছাকাছি ইন্তেকাল করেছেন ৩৪ জন এবং মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববীর কাছাকাছি ইন্তেকাল করেছেন ১১ জন। সৌদির স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী, মৃত হজযাত্রীদের পরিচয় নিশ্চিতের পর তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সৌদি আরবেই দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য সৌদি সরকার কোটা নির্ধারণ করেছিল। সেই অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় এবং শেষ ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে ২১ মে। এক মাসব্যাপী হজ পালন শেষে এখন হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য।
চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে বাংলাদেশ হজ মিশন বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্র ও আইটি হেল্পডেস্ক পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে মোট ৫৫ হাজার ২৮৬টি স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে হাজিদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার ও দিকনির্দেশনাসহ ২৫ হাজার ১০০টি বিভিন্নমুখী ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২৫১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবং তিন দেশের এয়ারলাইনসগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।