অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৩৮ dust ১২১ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে দাম কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, সবশেষ গত ২৫ মে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সাথে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ eager ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেশের বাজারে পুনরায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে এবার সব ধরনের রুপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত বাজুস অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামের ওঠানামা এবং দেশের বাজারে চাহিদার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই ধরনের নিয়মিত মূল্য সমন্বয় দেশের জুয়েলারি শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বর্ণের দাম কিছুটা কমায় সাধারণ ক্রেতা ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে এবং বাজারে অলঙ্কার কেনাবেচায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।