নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের যোগাযোগ খাতের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি কেন্দ্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির প্রথম ১০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মাত্র অর্ধেক সময় পার হওয়ায় এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বিবরণী কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ফলে এবারের ঈদযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
যোগাযোগ খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, যেকোনো বড় কর্মযজ্ঞে প্রশাসনিক এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবসম্মত কিছু সমস্যা বা জটিলতা আসা স্বাভাবিক। তবে সেগুলোকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান করাটাই মূল কাজ। প্রশাসনিক দক্ষতা ও সুশাসনের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজের গতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত উন্নয়ন ভাবনার সাথে সংগতি রেখেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে মেগা প্রকল্পসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সকল কাজ শেষ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মন্ত্রিপরিষদের সম্ভাব্য রদবদল বা গুঞ্জন সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন কোনো গুজবের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমের পেশাদারিত্বেরই অংশ।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের ইতিহাসে একই মন্ত্রীর অধীনে তিনটি বড় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরিচালনার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সড়ক, রেল ও নৌপথের আধুনিকায়ন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নই এখন এই তিন মন্ত্রণালয়ের মূল অগ্রাধিকার। আগামী ৮০ দিনের মধ্যে সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির বাকি লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে মন্ত্রণালয়গুলো আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।