রাজনীতি ডেস্ক
এক মাসের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই সিদ্ধান্তকে জনগণের ওপর এক ধরনের ‘জুলুম’ ও ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধি করতে হলে তা জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত ছিল। সংসদকে এড়িয়ে রাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেটের বাদাঘাটে সম্প্রতি শিশু ফাহিমা নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। বিরোধী দলীয় নেতা নিহত ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তাদের বাসভবনে যান। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে সম্প্রতি নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন এক মাসের ব্যবধানে পুনরায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতি উপেক্ষা করে জনগণের আড়ালে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এর ফলে পরিবহন খাত, কৃষি উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যেকোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অপরাধের বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং নতুন অপরাধের জন্ম হয়। ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যায়, তবে তা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, পূর্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল, ফাহিমা হত্যার বিচারও তেমনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সরকার যদি দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা দিতে এবং অপরাধীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক যৌক্তিকতা থাকে না। তিনি অবিলম্বে ফাহিমা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ বর্তমানে ভালো নেই। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনমনে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। সরকার পরিচালনায় নিয়োজিতদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মৌলিক চাহিদার প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।