জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও ২৬ হাজার বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (বেবিচক) ও ঢাকা হজ অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর তীব্র গরম ও নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশি হাজিদের চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হজ অফিস ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশনের সূত্র অনুযায়ী, মূল হজ চলাকালীন সময়ে তীব্র অসুস্থতার কারণে ১৭৬ জন হাজিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল ক্যাম্প থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেছেন ৫০ হাজার ৯৫০ জন হাজি।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. হাসানুল বারী (৬৩) নামের এক হাজি পবিত্র মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন। তার স্থায়ী নিবাস মাগুরা জেলায়। মৃত ৩৭ জন হাজির মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পবিত্র মক্কায়, যেখানে ২৭ জন হাজি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এছাড়া পবিত্র মদিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাকি ১০ জন হাজি। সৌদি আরবের আইন ও আন্তর্জাতিক হজ প্রটোকল অনুযায়ী, মৃত হাজিদের মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে বাংলাদেশ হজ মিশন।
অন্যদিতে হজ পালন শেষে সুস্থভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করতে যাওয়া ৪১৬ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৫ হাজার ৭৫৯ জন হাজি রয়েছেন।
হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তিনটি বিমান সংস্থা সমন্বিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩টি ডেডিকেটেড ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সৌদিয়া) ৪টি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬৯১ জন এবং সৌদি আরবের বাজেট এয়ারলাইন্স ফ্লাইনাসের ৮টি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। ফিরতি হজ ফ্লাইটগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা হজ অফিস সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করছে।