সারাদেশ ডেস্ক
অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে এবং জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ দখলদারদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রকৃত ও স্থায়ী অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না, বরং তাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চল নিয়ে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদ রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আহ্বান জানান, কেউ উচ্ছেদের ভয় দেখালে বা চাঁদা দাবি করলে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে জটিল রূপ ধারণ করেছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এই দুর্গম এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এই ঘটনার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করে। তবে গত ২৪ মে গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে আকস্মিক হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রশাসন সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধমুক্ত করে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য এই পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।