স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (সেন্টু)
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে জেলা প্রশাসন মানিকগঞ্জ এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়।
বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রতীক এই মহান কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন তিনি ছিলেন মানবতার কবি, সাম্যের কবি ও প্রেমের কবি।
তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুল চর্চা বাড়াতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন,নজরুলের লেখনী আমাদের মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।
তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজে বৈষম্য, হিংসা ও কুসংস্কার দূর হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মনীষা রানী কর্মকার,তিনি বলেন,কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতে বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিহিত রয়েছে।
তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক তরুণ প্রজন্মকে নজরুল চর্চার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে হবে।
বক্তব্য শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার একটি হৃদয়স্পর্শী নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন।
তাঁর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশিত গান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ। দর্শকরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে শিল্পীর পরিবেশনাকে স্বাগত জানান।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শায়লা কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন,নজরুল ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এক অনন্য জাগরণ পুরুষ তাঁর গান মানুষের হৃদয়ে সাহস, প্রেম ও মানবতার বাণী পৌঁছে দেয়।
সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যবোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ জাকির হোসেন, তিনিও নজরুলের লেখা কবিতা আবৃতি সংস্কৃতি তুলে ধরেন,মোঃ আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিবালয়,মোঃ মুন্না মাস্টার, প্রবীণ সাংবাদিক,সত্যকান্ত ভজন, মোঃ নাসির হোসেন, মোঃ খোরশেদ মেম্বার,সভাপতি,মোঃ শহিদুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক শিবালয় উপজেলা প্রেসক্লাব।
মোকলেসা হেলালি, হাফিজুর রহমান,প্রমুখ
এছাড়াও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, সরকারি শিশু পরিবার, স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ, শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন,এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে কবি নজরুলের আদর্শ,সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে নজরুল চিন্তা চেতনা নতুনভাবে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা মনে করেন, জেলা প্রশাসনের এ মহতী উদ্যোগ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জাতীয় কবির আদর্শ ধারণ ও চর্চার মাধ্যমে সমাজে মানবতা, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।