1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮: অন্ধকারে ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ ছেলের হাতে ড্রাম স্টিক: জেমসের পুত্র জিবরান আনামের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ময়মনসিংহে পাওনা ৫০০ টাকাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা নূরজাহান হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাচ্ছে গ্রেটা গারউইগের ‘নার্নিয়া’ ১৬ মে চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে কভার্ডভ্যান চাপায় শিশুর মৃত্যু ডিবি কার্যালয়ে সোর্স জালাল হত্যা: ২ পুলিশসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডিবি কার্যালয়ে সোর্স জালাল হত্যা: ২ পুলিশসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর মিন্টু রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে সোর্স জালাল আহমেদ শফিকে হত্যার দীর্ঘ ২৭ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ গত বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আজ রোববার সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সায়েদুর রহমান রায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— তৎকালীন ডিবি পুলিশের হাবিলদার মো. বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুর রউফ এবং ডিবি কার্যালয়ের ক্যান্টিন পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ের ভেতরেই জালাল আহমেদ শফিকে কতিপয় পুলিশ সদস্য মিলে হত্যা করেন। হত্যার পর অপরাধের প্রমাণ গোপন করতে তার মরদেহ গুম করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর রমনা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এস এম আলী আজম সিদ্দিকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে নিহত জালালের ছেলে আব্বাস উদ্দিন ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত জালাল আহমেদ শফি পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন। নিজস্ব মালিকানাধীন মাইক্রোবাস বিক্রির পর তিনি অন্যের গাড়ি ভাড়ায় চালাতেন। তবে ডিবি পুলিশ যখনই কোনো যানবাহন রিকুইজিশন করত, জালালকে সেই গাড়ি চালানোর জন্য ডাকা হতো। নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদে ডিবি কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালের ২০ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকার বাসা থেকে গাড়ির লাইসেন্স ও চেক বই নিয়ে ডিবি অফিসের উদ্দেশ্যে বের হন জালাল। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজের ১১ দিন পর ৩১ মার্চ পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে জালালের মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঘটনার তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার কারণ হিসেবে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে আসে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তৎকালিন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বর্তমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) এলাকায় মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য সংগ্রহের জন্য জালাল আহমেদ শফিকে ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করত ডিবির একটি বিশেষ দল। জালালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হলেও তাকে প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত করা হতো।

১৯৯৯ সালের ১৩ মার্চ একটি বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের তথ্য জালাল ডিবির অন্য একটি দলকে দিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিবি পুলিশের তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জালালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত এই রায় প্রদান করেন। আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এবং খোদ ডিবি কার্যালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি রাজধানীর অপরাধ ইতিহাসে অন্যতম একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026