1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩৭ জনের বেপরোয়া বাসের প্রতিযোগিতায় চাঁদপুরে হাসপাতালের দারোয়ান নিহত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ঘিরে ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা, গ্রেফতার ৪১৬ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালি পাঠানোর নামে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দুঃখ প্রকাশ বরেণ্য গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসারের প্রয়াণ, সোমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন মালয়েশিয়ায় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ক্যান্সার চিকিৎসায় ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ অ্যামিভ্যানটাম্যাবের অভূতপূর্ব সাফল্য ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, চিরচেনা রূপে ফিরছে রাজধানী

ক্যান্সার চিকিৎসায় ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ অ্যামিভ্যানটাম্যাবের অভূতপূর্ব সাফল্য

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে একটি নতুন ধরনের ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ ক্যান্সার চিকিৎসায় অভূতপূর্ব কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। ট্রায়ালের ফলাফল অনুযায়ী, ‘অ্যামিভ্যানটাম্যাব’ (amivantamab) নামের এই ট্রিপল-অ্যাকশন থেরাপিটি কিছু রোগীর শরীরে থাকা টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত যেসব রোগীর ক্যান্সার কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিল না বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। ১১টি দেশের রোগীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই ট্রায়ালের ফলাফল চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের (আইসিআর) গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ওষুধটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সঙ্কুচিত হয়। এর মধ্যে ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীর থেকে টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। চিকিৎসা শুরু করার পর অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়ের এসব রোগীর গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫ মাস, যা এই ধরনের জটিল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল ক্যান্সার থেরাপির বিশেষজ্ঞ কেভিন হ্যারিংটন এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব রোগীর ক্যান্সার কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, তাদের ক্ষেত্রে এমন সাড়া পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই চিকিৎসা পদ্ধতি ভবিষ্যতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বৈশ্বিক মঞ্চে এই গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অ্যামিভ্যানটাম্যাব নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে তিনটি ভিন্ন উপায়ে বা ট্রিপল-অ্যাকশন পদ্ধতিতে কাজ করে। প্রথমত, এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক ‘ইজিএফআর’ (EGFR) নামক প্রোটিনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে। দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ (MET) নামক সেই জৈবিক পথকে বন্ধ করে দেয়, যা ক্যান্সার কোষকে প্রচলিত চিকিৎসা থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, এটি রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে। এই বহুমুখী আক্রমণের কারণে ক্যান্সার কোষগুলো সহজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।

জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ওষুধটি বর্তমানে প্রায় ৬০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি ফুসফুস, কোলন, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধের কার্যকারিতার একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে। বিশেষ করে এই ট্রায়ালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) নেতিবাচক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার রোগীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সাধারণত অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বলে বিবেচিত হয়।

গবেষণাপত্রে ওষুধটির প্রয়োগ পদ্ধতির সুবিধাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইনজেকশনটি সাধারণত ত্বকের নিচে স্বল্প মাত্রায় দেওয়া হয়, যা প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ইনট্রাভেনাস ড্রিপের (স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় দেওয়া ওষুধ) তুলনায় অনেক দ্রুত ও সহজে প্রয়োগযোগ্য। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী রোগীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার। ফলে খুব কম রোগীকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত কারণে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে, যা ওষুধটির সহনশীলতার একটি বড় প্রমাণ।

ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন এই অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে সীমিত চিকিৎসার বিকল্প থাকা প্রান্তিক রোগীদের জন্যও কার্যকর নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই ওষুধটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন, তবুও এই ফলাফল বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026