সারাদেশ ডেস্ক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যকার বেপরোয়া প্রতিযোগিতার জেরে চাপা পড়ে বিল্লাল হোসেন (৪৮) নামে এক হাসপাতাল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (৩১ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ টোরাগড় এলাকার মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বিল্লাল হোসেন পাশের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির সাহেব আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের ‘ডক্টরস সিটি স্ক্যান হাসপাতাল’-এ দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, সকালে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরমুখী ‘আইদি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে পেছন থেকে আসা ‘বোগদাদ পরিবহন’-এর অপর একটি বাস অতিক্রম (ওভারটেক) করার চেষ্টা করছিল। আইদি পরিবহনের বাসটি পথ না ছাড়ায় বোগদাদ পরিবহনের চালক দ্রুত গতিতে উল্টো পথে (রং সাইড) প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিল্লাল হোসেনকে বোগদাদ পরিবহনের বাসটি সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই দুই বাসের চালক ও চালকের সহকারীরা যানবাহন রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিল্লাল হোসেন তিন সন্তানের জনক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও তিনি নিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের নিরাপত্তা ও বেপরোয়া চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস দুটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা পলাতক থাকায় তাঁদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে চালকদের এমন অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর এই প্রবণতা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।