সারাদেশ ডেস্ক
ইতালিতে লোক পাঠানোর নামে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং টাকা ফেরতের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ বারঘরিয়া ব্রীজ চত্বরে চামাগ্রাম ভ্যালাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত পরিবারের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বারঘরিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য রবু মেম্বারের ছেলে মোহাম্মদ আলী কালু এবং তার ভাই পালু ২০২২ সালে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার ১২ জন যুবকের কাছ থেকে মোট ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। দীর্ঘ সময় পর অভিযুক্তরা যুবকদের হাতে ইতালির ভিসা তুলে দিলেও পরবর্তী সময়ে তা ভুয়া ও জাল বলে প্রমাণিত হয়। ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসে ভিসা যাচাই ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্রগুলো জাল হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠায়।
ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য মোহাম্মদ আলী কালু ও পালুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। তবে অভিযুক্তরা টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নানা টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের একজন, পালু, ইতালিতে অবস্থান করছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়া হলে দেশ ও বিদেশ থেকে উল্টো তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যার ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে ভুক্তভোগী আশিক আলী, নূর ইসলাম, নূরনাহার খাতুন ও সুলেখা খাতুন জানান, গ্রামের সাধারণ মানুষ জমিজমা বিক্রি করে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অর্থ জোগাড় করেছিলেন। জমি ও অর্থ হারিয়ে এখন পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বক্তারা অবিলম্বে প্রতারক চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন খাতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মানববন্ধনের পর ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।