খেলাধূলা ডেস্ক
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ফাইনালে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করল প্যারিসের ক্লাবটি। গত মৌসুমে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরার মুকুট জেতাতে অনন্য ভূমিকা রাখা ফরাসি উইঙ্গার উসমান ডেম্বেলে এবারের ফাইনালেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
খেলার প্রথমার্ধে আর্সেনাল লিড নিয়ে পিএসজিকে চাপে ফেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের একপর্যায়ে পিএসজির পক্ষে সমতাসূচক গোলটি করেন উসমান ডেম্বেলে। আর্সেনালের রক্ষণভাগের ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের সূত্র ধরে পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি তারকা। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ৩৫টি গোল ও ১৬টি অ্যাসিস্ট করে পিএসজির ট্রেবল জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ডেম্বেলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চেও তার ৮টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট ছিল। যার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ জয় করেন। চলমান মৌসুমে আগের মতো পরিসংখ্যান উজ্জ্বল না হলেও আসরের ১৩ ম্যাচে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তবে ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে চোটের ঝুঁকি নিয়েও দলের জয়ে তার অবদান ছিল প্রশংসনীয়। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে পেশির টানের কারণে তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা গেলেও দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে উসমান ডেম্বেলে পুরো মৌসুমের কঠিন যাত্রার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখা ছিল পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা ও চোটের সমস্যা মোকাবেলা করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পারায় দলের প্রত্যেকেই আনন্দিত। শেষ মুহূর্তের চোট নিয়ে তিনি জানান, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে শেষ দিকে পেশিতে টান পড়েছিল, যা এই ধরনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাভাবিক।
পিএসজির এই ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্লাবের সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়টি ছিল অত্যন্ত আবেগ ও গৌরবের, তবে টানা দ্বিতীয়বার এই শিরোপা জয় ক্লাবের শ্রেষ্ঠত্ব ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়। ক্লাবটি এখানেই থেমে থাকতে চায় না এবং আগামীতেও ইউরোপের ফুটবলে এই আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হয়েছেন পিএসজির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা। ম্যাচ শেষে উয়েফার টেকনিক্যাল অবজার্ভার প্যানেলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভিতিনহার পারফরম্যান্সের উচ্চ প্রশংসা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পুরো ম্যাচজুড়ে, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে, মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল ভিতিনহার হাতে। আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি দলের খেলার ছন্দ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারের চমৎকার পারফরম্যান্সই পিএসজিকে খেলায় ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে পিএসজি তাদের নতুন এক যুগের সূচনা করল।