অপরাধ ডেস্ক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার রাতে উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের নিকটবর্তী দক্ষিণ মৌলভীকাটা গ্রামের একটি বেগুন ক্ষেত থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই বিশাল মাদকের চালানটি উদ্ধার করা হয়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ চৌকস টহলদল শুক্রবার রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। টহলদলটি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪৬-এর কাছাকাছি জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের দক্ষিণ মৌলভীকাটা গ্রামের একটি বেগুন ক্ষেতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সুনিপুণ তল্লাশির একপর্যায়ে ক্ষেতের ভেতরে লুকিয়ে রাখা দুটি পৃথক রঙের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি খয়েরি রঙের ব্যাগ থেকে ৯৮ হাজার ৯৭০ পিস এবং একটি সবুজ রঙের ব্যাগ থেকে ৯৭০ পিসসহ সর্বমোট ৯৯ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অপরাধীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এবং ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে মাদকভর্তি ব্যাগগুলো ফেলে রেখে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বর্তমানে ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হবে বলে জানা গেছে।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তটি ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড থাকায় বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র এই পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মাদক ও অবৈধ পণ্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও প্রায়শই কৌশল পরিবর্তন করে সক্রিয় থাকছে এই চক্রগুলো।
১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সর্বোপরি মাদক পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বদা বদ্ধপরিকর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফল বাস্তবায়নে বিজিবির জওয়ানরা সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। মাদক ও চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে ভবিষ্যতে সীমান্তজুড়ে এই ধরনের ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।