জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত স্পোর্টস কার এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়িবিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও দ্রুতগতিসম্পন্ন যানবাহন ঘুরে দেখেন এবং এই খাতের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি গাড়ির কারিগরি দিক, স্থায়িত্ব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈচিত্র্যসমূহ মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে ইলেকট্রিক ভেহিকল বা পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সক্ষমতা, চার্জিং অবকাঠামো এবং দেশীয় বাজারে এর সহজলভ্যতার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সাথে আধুনিক স্পোর্টস কারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি খোঁজখবর নেন।
সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইভি প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও এই পরিবেশবান্ধব যানবাহনের বাজার সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। প্রতিনিধি দল দেশে স্পোর্টস ও ইলেকট্রিক গাড়ির সংযোজন এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত সহায়তার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানিকৃত খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রিক যানবাহনের প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এই খাতের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এই উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রিন টেকনোলজির প্রসারে এই প্রদর্শনী ও প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত পরিদর্শন দেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।