অনলাইন ডেস্ক
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আজ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আজ ২৩ মে (শনিবার) সকাল থেকে আগামী ২ জুনের ফিরতি ট্রেনের আসন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কাউন্টারের ভিড় ও কালোবাজারি রোধে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট দুপুর ২টা থেকে ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একযোগে বিক্রি শুরু হয়েছে। ফিরতি যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন সময়ে এই টিকিট বিক্রির নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
রেলওয়ের ঈদ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২১ মে দেওয়া হয়েছে ৩১ মে’র টিকিট এবং ২২ মে বিক্রি হয়েছে ১ জুনের টিকিট। আজ ২ জুনের টিকিট বিক্রির পর আগামী ২৪ মে দেওয়া হবে ৩ জুনের এবং ২৫ মে দেওয়া হবে ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট।
যাত্রী ভোগান্তি ও টিকিট জালিয়াতি রোধে এবারের ঈদ যাত্রায় কিছু বিশেষ নিয়ম জারি করেছে রেল প্রশাসন। নিয়ম অনুযায়ী, অগ্রিম বুকিং করা এই বিশেষ টিকিটগুলো কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না। এছাড়া একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন, তবে একের অধিক টিকিট কাটার ক্ষেত্রে সহযাত্রীদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে ট্রেনের ভেতরেও এনআইডি যাচাইয়ের বিশেষ কড়াকড়ি থাকবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছর ঈদের ছুটি শেষে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফেরার কারণে পরিবহন খাতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে সড়কপথের যানজট এড়াতে সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ থাকে ট্রেন। রেলওয়ের এই আগাম টিকিটিং ব্যবস্থা এবং অনলাইন নির্ভরতা সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শতভাগ টিকিট অনলাইনে চলে যাওয়ায় প্রান্তিক ও প্রযুক্তি-অদক্ষ জনগোষ্ঠীর জন্য টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।