1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা অনন্য: দক্ষিণ কোরিয়ায় নাগরিক সংবর্ধনায় আসিফ মাহমুদ সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহীতে শ্রমিক অসন্তোষ: ফেডারেশন ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা জামায়াত জোট ত্যাগ করার জন্য শরিক চার দলকে হেফাজতে ইসলামের চাপ অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অসাধু দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর: কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের নির্দেশ ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন, নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার শুনানি আবারও স্থগিত ঈদযাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি স্টেশন

অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর বিভিন্ন অসংগতি ও সীমাবদ্ধতা দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই খসড়া দুটির ওপর মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এক অংশীজন সভার আয়োজন করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনবিদ, সংসদ সদস্য এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় নতুন খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা, শাস্তির মেয়াদ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। आगामी বাজেট অধিবেশনের পর জাতীয় সংসদে আইন দুটি পাস হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

অংশীজন সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অংশীজনরা খসড়া আইনের কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়ে তাদের আপত্তি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। বিশেষ করে, গুমের ঘটনার তদন্তভার পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। আলোচকদের মতে, শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত একজন এসআইয়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব নয়। একই সাথে, কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধের তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সম্পৃক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। মানবাধিকার কমিশনের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা এককভাবে কমিশনের হাতেই রাখার প্রস্তাব করার পাশাপাশি বিল দুটি চূড়ান্ত করার আগে গণশুনানির দাবি জানান অংশীজনরা।

সভায় উত্থাপিত তথ্যানুযায়ী, বিগত অধ্যাদেশের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন খসড়ায় গুমকে সুনির্দিষ্টভাবে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ (ক্রিমিনাল অফেন্স) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে গুমের ঘটনাগুলো কেবল মানবাধিকার কমিশনের প্রশাসনিক তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এর বিচার ও তদন্ত নিশ্চিত হবে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন আইনে শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ‘অনধিক ১০ বছর’ কারাদণ্ডের বিধান থাকায় বিচারিক বিবেচনার ভিত্তিতে শাস্তি শিথিল করার সুযোগ ছিল। বর্তমান খসড়ায় ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো কারণে থানায় মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হলে ভুক্তভোগী পক্ষ সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করতে পারবেন। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হলে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক কারণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কিংবা রাষ্ট্রের অখণ্ডতার অজুহাতে কোনো নাগরিককে গুম বা আটক রাখা যাবে না।

সভায় অংশ নিয়ে গুমের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী বলেন, বাংলাদেশ থেকে গুমের সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে হবে। আইনটি যেন কেবল ভবিষ্যতের জন্য নয়, অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে পারে—এমন বিধান রাখার দাবি জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী গুম হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো দৃশ্যমান কোনো সুরাহা বা তথ্য পায়নি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র আর কোনো গুমের ঘটনা দেখতে চায় না এবং মানবাধিকার কমিশনকে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতে মানবাধিকার কমিশনের আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনে প্রতিটি স্তরে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনকে আদালতে সরাসরি গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য বা প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026