ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র ৪ হাজার ৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি। এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার পর এবার ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কেপ ভার্দে শিবির।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা দলগত সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ভৌগোলিক আয়তনে ছোট হলেও মাঠের লড়াইয়ে তাদের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলার সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে এই ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের অবিশ্বাস্য স্বপ্নযাত্রাকে আরও দীর্ঘায়িত করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে তাদের রক্ষণভাগ ও গোলকিপিং। বিশেষ করে আসরের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ভোজিনহা একাই সাতটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন। গ্রুপ পর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোনো গোল হজম না করে ক্লিনশিট বজায় রাখা এই গোলরক্ষক বর্তমান ফুটবল বিশ্বে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসের হয়ে ঘরোয়া ফুটবল খেলা এই তারকার ফর্ম আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কেপ ভার্দের শক্তির মূল উৎস তাদের সুশৃঙ্খল রক্ষণব্যূহ এবং প্রতি-আক্রমণনির্ভর কৌশল। নকআউট পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগকে ঠেকাতে তারা একই কৌশল অবলম্বন করতে পারে। কেপ ভার্দে যদি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ড্র রাখতে পারে, তবে টাইব্রেকারে ভোজিনহার পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার ওপর ভর করে বড় কোনো অঘটন ঘটাও অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, প্রথমবার নকআউটে ওঠা একটি লড়াকু দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনাকেও তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হচ্ছে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে কেপ ভার্দের এই উত্থান উদীয়মান ফুটবল জাতিগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাচটি কেবল একটি নকআউট লড়াই নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক সৃষ্টির মঞ্চ হিসেবেও রূপ নিতে পারে। দুই দলের এই দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।