1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সন্তান প্রিয়মের জন্মদিন উদযাপন করলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি অতিরিক্ত সচিবদের বিদেশ ভ্রমণে বিজনেস ক্লাস সুবিধা বাতিল, ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক টিকাদান কর্মসূচিতে ধীরগতির কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রতিবেশী দেশে সরকার পরিবর্তন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা ও সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেলেন ১৪ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ নেত্রকোণায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ সুপ্রিম কোর্টের বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক কাজে ই-ফাইলিংয়ের বিপ্লব: গতি ও স্বচ্ছতায় ফিরছে নাগরিক স্বস্তি

খিলক্ষেতে ত্রাস সৃষ্টিকারী ‘লাল বাহিনী’র প্রধান নূর হোসেন গ্রেপ্তার

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ডেস্ক

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কথিত ‘লাল বাহিনী’র প্রধান নূর হোসেন লালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নূর হোসেন লাল খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় একটি শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘লাল বাহিনী’ নামে পরিচিত। এই বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, নিকুঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এই বাহিনী প্রতি মাসে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা সংগ্রহ করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, নূর হোসেন লাল কেবল চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং খিলক্ষেত থানা সংলগ্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি বিশাল নেটওয়ার্কও পরিচালনা করতেন। আশ্চর্যজনকভাবে খিলক্ষেত থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বের মধ্যে তার ছোট ভাই বাবুলের মাধ্যমে তিনি এই মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও নূর হোসেনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।

নূর হোসেন লালের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানা গেছে, তিনি অতীতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের জনৈক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নিজস্ব আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখাতে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিভিন্ন তকমা দিয়ে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হতো।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ‘লাল বাহিনী’র সদস্যদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল নিকুঞ্জ ও খিলক্ষেতের জনজীবন। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। এই বাহিনীর ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কিংবা মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য করেছেন। নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

অভিযানের বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নূর হোসেন লালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় পুলিশের কাছে বিবেচ্য নয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নূর হোসেন লালের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে খিলক্ষেত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026