নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি ভারতের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানায়। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে করে বিএনপি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করার চেয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব জনস্বার্থ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাকে এই মুহূর্তে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে তার দল। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে, তা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে। তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে সব বাধা অতিক্রম করে দেশে সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোকপাত করেন। নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে একান্তই গণমানুষের কল্যাণে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডে সরকার লিপ্ত হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করা এই সরকার জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো বৈদেশিকে নীতি গ্রহণ করবে না।
উল্লেখ্য, ঢাকা জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন এবং দলের আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্য ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে বিএনপির ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিপক্ব কূটনৈতিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।