আইন আদালত ডেস্ক
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট—উভয় বিভাগের জন্য নির্ধারিত সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই আদেশের ফলে সপ্তাহের এই দুই দিনেও এখন থেকে পূর্বের ন্যায় সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩ মে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (চেম্বার জজ আদালতসহ) সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।’ এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দেশের উচ্চ আদালতে বিচারিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। মূলত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিচারপ্রার্থীদের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই নতুন আদেশের মাধ্যমে সেই বিশেষ ব্যবস্থাটি আপাতত রহিত করা হলো।
আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে আবারও শতভাগ সরাসরি উপস্থিতির পরিবেশ ফিরে আসবে। ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম স্থগিতের এই প্রক্রিয়াটি বিচার প্রশাসন পরিচালনার একটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আদালতের কার্যতালিকা বিন্যাস এবং এজলাসে উপস্থিত হয়ে শুনানির প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিশেষ পরিস্থিতি বা সংকটের সময়ে বিচার বিভাগের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইনের অধীনেই দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুনানি ও বিচারিক আদেশ প্রদান করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতি এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের এখন থেকে সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসেই নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি আদালতের এজলাসে উপস্থিত থাকতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ এবং চেম্বার জজ আদালতে কোনো ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে না। দেশের বিচার বিভাগের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে মামলা ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখন পর্যবেক্ষণ করবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনিক পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, বিচারিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্ট বদ্ধপরিকর। এই আদেশটি দেশের সব জেলা জজ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনি দপ্তরগুলোতেও অবগত করা হয়েছে যাতে উচ্চ আদালতের এই পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় রক্ষা করা সহজ হয়।