নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারা দেশের প্রতিটি থানাকে দালালমুক্ত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানা আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই রমনা মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের থানায় আসার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। পরবর্তীতে তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ, হাজতখানা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি থানার সেবার মান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেন।
হাজতখানার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। তিনি হাজতখানার ধারণক্ষমতা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ওসির কাছে জবাবদিহি চান। এ সময় তিনি হাজতে থাকা ব্যক্তিদের খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করেন এবং সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ফ্যান ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের থাকার মেসটিও তিনি পরিদর্শন করেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি থানায় অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করে, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বহন করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থাকে কোনোভাবেই দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা বা দালালের মাধ্যমে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি দায়িত্ব অবহেলা কিংবা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানাকে হতে হবে সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল, যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো ভয় বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সহায়তা লাভ করতে পারবে।
দীর্ঘ সময় ধরে থানা চত্বরে অবস্থানকালে তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে তৃণমূল পর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
উক্ত পরিদর্শনের সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কর্মকর্তাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেন যে, জনসেবায় কোনো প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। দেশের প্রতিটি থানা যাতে প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত এই ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।