নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধীরগতি বা কোনো বিচ্যুতি ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপদেষ্টা জানান, টিকাদান কর্মসূচির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা সীমাবদ্ধতা ছিল কি না, তা নিরূপণ করা জরুরি। তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলার মতো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তৎকালীন সরকারের ছিল বলে তিনি মনে করেন না। মূলত প্রশাসনিক কোনো জটিলতা বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ছিল কি না, সেটিই এই তদন্তের মূল বিষয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬১ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। অবশিষ্ট শিশুদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকার আওতায় এনে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হবে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য নেই। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেখানে যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবেন, তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা কোনো সত্তা হিসেবে নয়, বরং ভারত রাষ্ট্রের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা মূলত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। তাই ভারতের কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানায় এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে পেশাদার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচির মতো জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিষয়ে সরকারের এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচিগুলোতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক স্থবিরতা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে তা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল নীতি বজায় রাখার বিষয়টিও দেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।