জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থানরত আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে চলতি হজ মৌসুমে মোট ৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
নিহত দুই হজযাত্রী হলেন মো. নাসির উদ্দিন বিশ্বাস এবং মাহফুজা বেগম। মো. নাসির উদ্দিন বিশ্বাস ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে মাহফুজা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এলাকার বাসিন্দা। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী ৯ জনের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী।
হজযাত্রীদের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ হজ অফিস জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতা, পূর্ব-বিদ্যমান রোগ এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে শারীরিক চাপ—এ ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হজের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে প্রবীণ হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
এদিকে চলতি হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৫১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪২ হাজার ৪৪৩ জন হজযাত্রী। মোট ১১৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে এসব হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ফ্লাইট সূচি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয় করছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৩৬৪টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের সহায়তায় স্থাপিত আইটি হেল্পডেস্ক থেকে মোট ১১ হাজার ৫৫টি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তথ্য প্রদান, হারানো ব্যক্তির সন্ধান, ভ্রমণ সংক্রান্ত সহায়তা এবং জরুরি যোগাযোগ সহায়তা।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের একটি অংশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হয়। এ কারণে হজের পূর্বে মেডিকেল স্ক্রিনিং ও প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে শারীরিক চাপ অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
হজ কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে মিনায় অবস্থান, আরাফাতের ময়দান এবং অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সময় অতিরিক্ত জনসমাগমকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের যাত্রা, অবস্থান এবং প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তবে একই সঙ্গে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।