রাজধানী ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৫ মে) ইসির পক্ষ থেকে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বলে গতকালই ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার নামে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচিত প্রার্থীর বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপাতে নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয় এবং দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ আসনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূরণ হয়ে থাকে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে ১৩টি আসন, বিএনপি জোটকে ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র জোটকে একটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকি আসনগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নুসরাত তাবাসসুমের আসনটি নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়কে কেন্দ্র করে। নির্ধারিত সময়সীমার ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা শুরুতে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই আসনে জামায়াত জোট সমর্থিত অপর প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণের বৈধতা নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। নুসরাত তাবাসসুম আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি পুনরায় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই শেষে ২ মে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
অন্যদিকে, মনিরা শারমিন আদালতে রিট দায়ের করে এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান যে, আদালতের চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হোক। তবে সোমবার (৪ মে) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই রিট শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং বিষয়টি অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। জানা যায়, বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং রিট আবেদনকারী একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিষয়টি স্থানান্তর করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা এবং কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীর বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আইনি জটিলতা ও প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সময়সূচি বাস্তবায়নে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে।