খেলাধূলা প্রতিবেদক
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি জানান, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ধাপে ধাপে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সব জেলায় পর্যায়ক্রমে স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি ক্রীড়া কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ও শহর পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমান সুযোগ তৈরি করা এবং একটি সমন্বিত ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলা।
ডিজিটাল আসক্তি ও তরুণ প্রজন্মের জীবনধারার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শারীরিক কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাবলিক ও প্রাইভেট উভয় ক্ষেত্রেই ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মোট ৩০টি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি, ক্রীড়া দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।