নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া দেশের অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো মেরামত করে অভ্যন্তরীণ রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ায় ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আগামী ৭ মে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করবেন। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নীলফামারীতে বিদ্যমান ছোট ফ্লাইং একাডেমিটিকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এই নতুন একাডেমিগুলো দক্ষ বৈমানিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এভিয়েশন সেক্টরকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে চায়, যাতে পাইলট তৈরির ব্যয় কমিয়ে সাধারণ পরিবারের সন্তানরাও এই পেশায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে দেশীয় এয়ারলাইন্সের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সাথে পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নে ডিসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল অথবা প্রয়োজনে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটন স্থানগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ভোলার মনপুরা দ্বীপকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ এর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বহরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতিমধ্যে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আরও কিছু উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান সংকট নিরসনে নতুন পাইলট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে শুরু হবে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার অব্যবহৃত বিমানবন্দর ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে অধিবেশনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।