বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার বিদায়ী সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেছেন। সোমবার (৪ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানাদিক এই আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তার দায়িত্ব পালনকালীন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কৌশলগত চুক্তির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন।
আলোচনায় দুই দেশের নতুন সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে একমত পোষণ করেন তারা। হাইকমিশনার পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত তার প্রতিবেশী দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ়করণে বিদায়ী হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রণয় ভার্মার পরবর্তী কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। বৈঠকে কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিদায়ী সাক্ষাৎটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থিতিশীল সম্পর্ক উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ খাতে যৌথ সহযোগিতার যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার বার্তা পুনরায় স্পষ্ট হলো।